চট্টগ্রাম


আতুরার দিঘী
স্থান: কালীপুর, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
নাম করনের ইতিহাস: এই দিঘীর এই ধরনের নামকরনের পেছনে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক কারণ ঐতিহাসিক ভাবে প্রচলিত যে, এই দিঘীটি খনন করার পর পাড় গুলো হাতি দিয়ে শক্ত করা হয়েছিল তাই এই দিঘীটি কালক্রমে স্থানীয়দের কাছে হাতির দিঘী বা আতুরার দিঘী নামে পরিচিত হয়্
ঐতিহাসিক বর্ননা: এটা অনেক বছর আগের কথা সঠিক সময় কেউ বলতে পারেনি এই দিঘীটি কে নিয়েই ঘটতো অস্বাভাবিক ঘটনা
তখন থেকে মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত যে, এলাকার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে এই দিঘী থেকে একটি নৌকা উঠত নৌকায় থাকতো নিত্য প্রয়োজনীয বিভিন্ন জিনিস যেমন হাড়ি, পাতিল, পেয়ালা, চামচ, লবন দানি, ইত্যাদি আরো প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং সবচেয়ে মজার এবং আজব ব্যপার হচ্ছে সবকিছু ছিল স্বর্ণের এমনকি নৌকাটাও ছিল পুরা পুরি স্বর্ণের তৈরী এই নি্ত্য প্রয়োজনীয় জিনিস গুলো ব্যবহারের একটা নিয়ম ছিল অনুষ্ঠানে ব্যবহার করার পর এই জিনিস গুলো আবার নৌকায় ফিরিয়ে দিয়ে আসতে হতো নৌকাটি জিনিস ফেরত না দেয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতো এই নিয়মটি বছর বছর ধরে প্রচলিত কেউ কোনদিন এই নিয়মের ব্যতিক্রম দেখেনি সব জিনিস পত্র নৌকাতে ফিরিয়ে দেয়ার পর নৌকাটি আস্তে আস্তে পানির নিচে তলিয়ে যেত
সেই সময়ের মানুষেরা কেউ আজ আর বেচে নেই তাই ঘটনা সম্পর্কে এখন আর যাচাই বাছাই করা সম্ভব নয় তবে বর্তমানেও লোকজন এই ঘটনা সম্পর্কে জানে তবে বাস্তব ঘটনার সাথে বর্তমান ঘটনার কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় যেমন আগের ঘটনায় কোন ধরমীয় সম্পৃক্ততা ছিল না কিন্তু বর্তমানে এই ঘটনার সাথে ধরমীয় সর্ম্পৃক্ততা খুজে পাওয়া যায়
বর্তমানে এই দিঘীর সামনে একটি মাজার আছে বর্তমানে লোকজনের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে, ওই নৌকাটা উঠতো এই মাজারের ওরশ উপলক্ষে সব সময় উঠতো না যখন এই মাজারের কোন অনুষ্ঠান থাকতো তখন উঠতো কিন্তু একটা ব্যাপার লক্ষ করলে বুঝা যায় যে, এই নৌকার ঘটনাটা আরো অনেক আগের মাজারের উৎপত্তি এই নৌকার ঘটনার আরও অনেক পরে সুতরাং এই ঘটনার সাথে মাজারের কোন সম্পর্ক নাই
যাই হোক, ফিরে আসি আসল ঘটনায় এভাবে প্রতিবারের মত স্বাভাবিক নিয়মে নৌকাটি উঠল সবাই এর জিনিস পত্র গুলো ব্যবহারের জন্য ভিতরে নিয়ে গেল এবং নৌকাটাও তার জিনিস পত্র ফেরত নেয়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো যথারীতি পরের দিন নৌকার জিনিস পত্র সব এনে নৌকায় তোলা হল কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এবার আর নৌকা তার জিনিস গুলো নিয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেল না লোকজন স্বভাবতই একটু অবাক হলো কারন তারা এই ধরনের ঘটনা কখনো দেখেনি তাই তারা অপেক্ষা করতে লাগলো তারা চিন্তা করছিল নৌকাটা হয়তো কোন কারণে আজকে ডুবতে দেরি করছে কিন্তু দুই তিন ঘন্টা যাওয়ার পরও যখন নৌকাটা ডুবল না তখন সবাই চিন্তায় পড়ে গেল তারা কেউ কিছু বুঝতে পারছে না, তাই একে অন্যর সাথে কথা বলতে লাগলো কিন্তু কেউ কোন সমাধান দিতে পারলো না
শেষ পর্যন্ত তারা সিদ্ধান্ত নিল সবাই মিলে মসজিদের হুজুরের কাছে যাবে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা সবাই মিলে হুজুরের কাছে গেল হুজুর সবাইকে বলল যে, আপনারা সবাই যার যার বাড়িতে ফিরে যান হুজুরের কথা অনুযায়ী সবাই যার যার বাড়িতে ফিরে গেল সেই রাতে সবাই আলাদা আলাদা ভাবে একই স্বপ্ন দেখলো পরের দিন সকাল বেলা সবাই আবার একই জায়গায় একত্রিত হল তখনই সবাই তাদের স্বপ্ন দেখার ঘটনা বলতে লাগলো তাদের কথা অনুযায়ী ঘটনাটা হলো, গতকালের অনুষ্ঠানের সময় নৌকার ব্যবহ্নত যে সব জিনিস ছিল তার মধ্যে সব জিনিস ফেরত দেয়া হয়নি তাই নৌকাটি ডুবে নি
এবার সবাই বুঝতে পারলো কেউ একজন এখান থেকে কোন জিনিসচুরি করেছে, তাই নৌকাটি সেই জিনিস টির জন্য অপেক্ষা করছে সাথে সাথে এলাকায় ঘোষনা দেয়া হল যে এখান থেকে কোন জিনিস চুরি করেছে সে যেন সেটি নৌকাতে ফিরিয়ে দিয়ে আসে, এবং এর জন্য তাকে কোন প্রকার শাস্তি দেয়া হবে না এর পর কয়েক ঘন্টা পার হয়ে গেল এর মধ্যে কেউ কোন জিনিস ফেরত দিয়ে আসলো না এভাবে দ্বিতীয় দিন রাত পার হয়ে গেল
পরদিন সকাল বেলা সবাই আশ্চর্য হয়ে দেখতে পেল নৌকাটি আর নাই সবাই বুঝতে পারলো কেউ একজন তার চুরি করা জিনিস নৌকাতে ফিরিয়ে দিয়ে এসেছে
এরপর থেকে নৌকাটিকে আর কখনো উঠতে দেখা যায় নি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Your Ad Here